বিষণ্ণতা একটি মানসিক ব্যাধি। এতে মন খারাপ থাকে, জীবনের বিভিন্ন বিষয়ে আগ্রহ কমে যায় এবং ঘুম ও ক্ষুধায় সমস্যা দেখা দেয়। এর সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী দুঃখবোধ, নেতিবাচক চিন্তা, প্রাণশক্তির অভাব, অপরাধবোধ, বিষণ্ণ ভাব ও উদ্বেগসহ নানা মানসিক সমস্যা থাকতে পারে। সময়মতো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে এর পরিণতি গুরুতর হতে পারে। চলুন জেনে নিই, কী কারণে বিষণ্ণতা দেখা দেয় এবং সাধারণ মন খারাপের সঙ্গে এর পার্থক্য কীভাবে বোঝা যায়।
বিষণ্ণতার কারণ
বিষণ্ণতার গুরুতর রূপ দেখা দেওয়ার পেছনে কয়েকটি প্রধান কারণ রয়েছে:
জৈবিক কারণ
- বংশগত ঝুঁকি।
- আগে কোনো গুরুতর রোগে আক্রান্ত হওয়া।
- বয়সজনিত পরিবর্তনের প্রভাব।
- শরীরের বিপাকপ্রক্রিয়ার বৈশিষ্ট্য।
সামাজিক কারণ
- গর্ভাবস্থা ও এর সঙ্গে সম্পর্কিত পরিবর্তন।
- বিবাহবিচ্ছেদ বা সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর মানসিক চাপ।
- নিম্ন সামাজিক অবস্থানের সঙ্গে সম্পর্কিত সমস্যা।
- প্রিয়জনকে হারানো।
- কর্মক্ষেত্র বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সমস্যা।
- ব্যক্তিগত সম্পর্কের সমস্যা।
- চাকরি হারানো।
মনস্তাত্ত্বিক কারণ
- ব্যক্তির নিজস্ব স্বভাব ও বৈশিষ্ট্য।
- মানসিক আঘাত।
- জীবনের কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাওয়া।
- দীর্ঘ সময় মানসিক চাপের মধ্যে থাকা।
কারও বিষণ্ণতা হয়েছে কীভাবে বুঝবেন?
বিশেষজ্ঞরা বিষণ্ণতার লক্ষণকে প্রধানত চারটি ভাগে ভাগ করেন:
- চিন্তাভাবনাসংক্রান্ত লক্ষণ: জটিল সমস্যার সমাধান করতে অসুবিধা, মনোযোগ ধরে রাখতে সমস্যা এবং সিদ্ধান্ত নিতে অসুবিধা।
- আবেগসংক্রান্ত লক্ষণ: ক্লান্তি, উদাসীনতা, বিষণ্ণ মন, শক্তির অভাব, আত্মহত্যার চিন্তা ও অনিদ্রা।
- আচরণগত লক্ষণ: হঠাৎ মেজাজ বদলে যাওয়া, রাগ, বিরক্তি, উদ্বেগ, দুঃখ এবং একা থাকার ইচ্ছা। অন্যরা ব্যক্তির আচরণ পর্যবেক্ষণ করে এসব লক্ষণ বুঝতে পারেন।
- শারীরিক লক্ষণ: ক্ষুধার পরিবর্তন, কোষ্ঠকাঠিন্য, যৌন আকাঙ্ক্ষা কমে যাওয়া, শরীরে ব্যথা এবং পছন্দের কাজে আগ্রহ হারানো।
বিষণ্ণতার উপসর্গ
বিষণ্ণতার উপসর্গগুলোকে প্রধান ও অতিরিক্ত দুই ভাগে ভাগ করা হয়।
প্রধান উপসর্গ
- অন্তত দুই সপ্তাহ ধরে সব সময় মন খারাপ থাকা।
- এক মাসের বেশি সময় ধরে অতিরিক্ত ক্লান্তি থাকা।
- দৈনন্দিন কাজে একেবারেই আগ্রহ না থাকা।
অতিরিক্ত উপসর্গ
- নিজের অতিরিক্ত সমালোচনা করা।
- অপরাধবোধ বেড়ে যাওয়া।
- আত্মহত্যার চিন্তা।
- নড়াচড়া ও মানসিক প্রতিক্রিয়া ধীর হয়ে যাওয়া।
- সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বারবার দ্বিধায় পড়া।
- খাদ্যাভ্যাসজনিত সমস্যা।
- মনোযোগের মাত্রা কমে যাওয়া।
বিষণ্ণতার প্রথম লক্ষণ দেখা দিলে কী করবেন
বর্ণিত লক্ষণগুলোর বেশির ভাগ যদি আপনার মধ্যে দুই সপ্তাহের বেশি থাকে, তাহলে মনোবিজ্ঞানী, সাইকোথেরাপিস্ট বা মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে যেতে দেরি করবেন না। প্রাথমিকভাবে নিজের অবস্থা যাচাই করতে বিষণ্ণতার মাত্রা যাচাইয়ের পরীক্ষা সহায়ক হতে পারে। তবে মনে রাখবেন, কোনো অনলাইন পরীক্ষা চিকিৎসকের পরামর্শের বিকল্প নয়।