শৈশবে অনেকেই মা-বাবা, শিক্ষক বা অভিভাবকের কাছে এমন কথা শুনেছেন: ‘নিজেকে সম্মান করলে অন্যরাও আপনাকে সম্মান করবে।’ কিন্তু খুব কম মানুষই কথাটি গুরুত্ব দিয়ে নিয়েছেন। অথচ এটি সত্যি। আপনি নিজেই যদি নিজেকে সম্মান না করেন, তাহলে অন্যদের কাছ থেকে সম্মান দাবি করতে পারেন না। আত্মসম্মান কী? এটি হলো নিজের ভালো-মন্দ সব দিকসহ নিজেকে আন্তরিকভাবে ভালোবাসা ও গ্রহণ করা। আপনার যদি মনে হয় যে আপনি নিজেকে যথেষ্ট সম্মান করেন না, তাহলে আমাদের পরামর্শগুলো কাজে আসবে।
বাস্তব জীবনে আত্মসম্মান
বাস্তব জীবনে দেখা যায়, অনেক মেধাবী ও সফল মানুষ নিজের সম্পর্কে নিচু ধারণা পোষণ করেন। আবার উল্টোভাবে, নিজের কাজে দক্ষ নন এমন অনেক মানুষের আত্মমূল্যায়ন অতিরিক্ত উঁচু এবং তাঁরা নিজেদের যথেষ্ট সম্মান করেন। তাই বলা যায়, আত্মসম্মান সব সময় বাস্তব অবস্থার প্রতিফলন নয়। আপনার আত্মসম্মান কেমন, তা বুঝতে এই তিনটি প্রশ্নের উত্তর দিন:
- আমি কি প্রায়ই নিজের ওপর আস্থার অভাব বোধ করি?
- আমি কি সমালোচনাকে নেতিবাচকভাবে নিই?
- অপমানের জবাব দেওয়ার চেয়ে চুপ থাকা কি আমার কাছে সহজ?
এসব প্রশ্নের উত্তর ‘হ্যাঁ’ হলে আপনি নিজেকে যথেষ্ট সম্মান করেন না। আর ‘না’ হলে এর বিপরীত বোঝায়। আরও নির্ভুলভাবে জানতে ‘আপনার আত্মমূল্যায়ন কি বেশি?’ পরীক্ষা দিন।
নিজের চিন্তাভাবনা বদলানো
শুরুতে নিজের আত্মমূল্যায়ন নিয়ে কাজ করতে হবে। এর ফলে আপনি আসলে কেমন মানুষ, সে বিষয়ে মনে একটি পরিষ্কার ধারণা তৈরি হবে। এই পর্যায়ে নিজের ইতিবাচক ও নেতিবাচক বৈশিষ্ট্যগুলো নিয়ে ভাবতে পারেন। নিজের ভয়গুলো যৌক্তিকভাবে বিশ্লেষণ করুন অথবা সেগুলো কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করুন। কাঙ্ক্ষিত ফল পেতে একা ও নিরিবিলি পরিবেশে এসব নিয়ে কাজ করাই ভালো।
নিজেকে ক্ষমা ও গ্রহণ করা
সব মানুষই ভুল করেন, তবে সবাই সেই ভুল নিয়ে পড়ে থাকেন না। আত্মসম্মানসম্পন্ন মানুষ পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করেন, শিক্ষা নেন এবং সামনে এগিয়ে যান। তাঁরা নিজেকে ক্ষমা করতে জানেন এবং অতিরিক্ত আত্মবিশ্লেষণে ডুবে থাকেন না। আপনিও একই চেষ্টা করুন। কোনো পরিস্থিতিতে ভুল করেছেন বুঝতে পারলে মেনে নিন যে এমন ভুল যে কারও হতে পারে। শিক্ষা নিন এবং সামনে এগিয়ে যান।
নিজের সম্পর্কে ভালো কথা বলুন
নিজের সম্পর্কে নেতিবাচকভাবে ভাবা ও বলা বন্ধ করুন। ‘আমি পারব না’, ‘আমার বয়স অনেক বেশি’ বা ‘এটা নিয়ে আমার ভাবাই উচিত নয়’, এমন কথাগুলো আপনার ব্যর্থতা ও অপূর্ণ আশার প্রধান কারণ হতে পারে। এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অন্তত একবার চেষ্টা করে দেখুন। নিজের সম্পর্কে খারাপ কথা বললে অন্যরাও আপনাকে অপমান বা ছোট করার সুযোগ পায়।
ব্যক্তিগত সীমারেখা রক্ষা করা
আপনার ব্যক্তিগত সীমারেখা কেবল আপনিই নির্ধারণ করতে পারেন এবং অন্যদের তা জানাতে পারেন। এর মাধ্যমে আপনি স্পষ্ট করেন, আপনার সঙ্গে কোন আচরণ গ্রহণযোগ্য এবং কোনটি নয়। কোনো সহকর্মী ছুটির দিনে কাজের জন্য ফোন করেছেন? নিজের সীমারেখা রক্ষার দুটি উপায় আছে: ফোন না ধরা অথবা ফোন ধরে জানানো যে আজ আপনার ছুটির দিন। এরপর অন্যরা আপনাকে সম্মান করতে শিখবে এবং সীমা লঙ্ঘন করা থেকে বিরত থাকবে।
নিজের কথা শুনুন
আপনার নিজস্ব নীতি ও নিয়ম থাকতে পারে, যা লঙ্ঘনের অধিকার কারও নেই। সমাজ হয়তো আশা করে যে তরুণেরা ২৩ বছর বয়সের মধ্যে বিয়ে করে সন্তান নেবেন। কিন্তু আপনার যদি তা করতে ইচ্ছা না হয়? সামাজিক মতামতের চাপে পড়বেন না। নিজের পছন্দ অনুযায়ী জীবনযাপন করুন এবং এ জন্য অপরাধবোধে ভুগবেন না। জীবনের অন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও একই কথা প্রযোজ্য।
নতুন কিছু শেখা
আত্মোন্নয়নের চেষ্টা করুন, একই জায়গায় থেমে থাকবেন না। এতে আপনি নিজের নতুন দিক আবিষ্কার করতে পারবেন। নতুন ও আগ্রহী মানুষের সঙ্গে পরিচয় হবে। আশপাশের মানুষও আপনাকে একজন আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে দেখবে। এর জন্য সব সময় গ্রন্থাগারে বসে বই পড়ার প্রয়োজন নেই। নাচ, বিদেশি ভাষা, হস্তশিল্প বা আগ্রহভিত্তিক ক্লাবসহ নানা কিছু বেছে নিতে পারেন।
আমাদের ভেতরের জগৎ বাইরের জগৎকে প্রভাবিত করে। নিজের সঙ্গে আপনি যেভাবে আচরণ করেন, তা অন্যদের সঙ্গে আপনার সম্পর্কেও প্রতিফলিত হয়। মনে রাখুন, আপনি অনন্য। শুধু এ কারণেই নিজেকে মূল্য দেওয়া উচিত।