আপনার বা আপনার কাছের কারও মন টানা দুই সপ্তাহ বিষণ্ণ থাকলে, আত্মহত্যার চিন্তা এলে এবং ঘুম ও ক্ষুধায় সমস্যা হলে এগুলো বিষণ্ণতাজনিত ব্যাধির স্পষ্ট লক্ষণ। এমন ক্ষেত্রে কী করা প্রয়োজন?
বিষণ্ণতা নির্ণয় ও চিকিৎসা
প্রথমেই একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে সাক্ষাতের সময় নিন। তিনি আপনার সমস্যাগুলো শুনবেন, প্রয়োজনীয় মূল্যায়ন করবেন এবং আপনার অবস্থা বিশ্লেষণ করবেন। এসব ধাপ শেষে তিনি সঠিক রোগনির্ণয় জানাতে পারবেন এবং পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে পরামর্শ দেবেন।
বিষণ্ণতার চিকিৎসায় তিনটি পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়: সাইকোথেরাপি, ওষুধভিত্তিক চিকিৎসা অথবা সাইকোথেরাপির সঙ্গে ওষুধভিত্তিক চিকিৎসা। মাঝারি ও গুরুতর বিষণ্ণতায় সাধারণত ওষুধ দেওয়া হয়। মনোরোগ বিশেষজ্ঞ রোগীর জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ বেছে নেন এবং সঠিক মাত্রা ও সেবনের সময়সূচি নির্ধারণ করেন।
এ ক্ষেত্রে প্রধান উপসর্গগুলো কমাতে প্রথমে ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা শুরু করা হয়, যাতে রোগীকে তখনই নিজের অনুভূতি আরও গভীরভাবে বিশ্লেষণ করতে না হয়। অবশ্যই সাইকোথেরাপিও প্রয়োজন, তবে এই পর্যায়ে তা গভীর চিকিৎসার চেয়ে সহায়ক ভূমিকা বেশি পালন করে।
কারও বিষণ্ণতা মৃদু হলে বিশেষজ্ঞ সাইকোথেরাপি দিয়ে চিকিৎসা শুরু করেন। বিষণ্ণতার চিকিৎসায় অনেক বিশেষজ্ঞ কগনিটিভ সাইকোথেরাপি ব্যবহার করেন। এই থেরাপির লক্ষ্য হলো নিজের ও চারপাশের জগৎ সম্পর্কে ব্যক্তির ধারণায় পরিবর্তন আনা। কখনো সাইকোথেরাপি প্রত্যাশিত ফল দেয় না, যেমন রোগী চিকিৎসার কাজে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে প্রস্তুত না থাকলে। তখন ওষুধভিত্তিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
গুরুত্বপূর্ণ!
মনে রাখবেন, যত দ্রুত সহায়তা নেবেন, সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা তত বেশি থাকবে। বিশেষজ্ঞের কাছে যেতে দেরি করবেন না। নিজের অবস্থা সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পেতে বিষণ্ণতার মাত্রা যাচাইয়ের পরীক্ষা সহায়ক হতে পারে।
কত দিন অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট সেবন করতে হয়?
বেশির ভাগ ক্ষেত্রে চিকিৎসক ৬ মাস অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট সেবনের পরামর্শ দেন: এসব ওষুধের প্রভাব ৩-৪ সপ্তাহ পর দেখা যায়। কখনো রোগীকে শুরুতে অল্প মাত্রার অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট দেওয়া হয়, এরপর চিকিৎসক ধীরে ধীরে মাত্রা বাড়ান।
অ্যান্টিডিপ্রেসেন্টকে তিনটি দলে ভাগ করা যায়:
উদ্দীপক
যাঁদের কাজের ক্ষমতা কমে গেছে, শক্তির অভাব রয়েছে এবং উদাসীনতা বেশি, তাঁদের এসব ওষুধ দেওয়া হয়।
প্রশান্তিদায়ক
যাঁদের অতিরিক্ত উদ্বেগ, অনেক ধরনের ফোবিয়া ও ঘুমের সমস্যা রয়েছে, এসব ওষুধ তাঁদের সহায়তা করে।
ভারসাম্যপূর্ণ
উদ্বেগপ্রধান বা মন্থরতা-প্রধান বিষণ্ণতায় এসব ওষুধ দেওয়া হয়।
বিষণ্ণতা প্রতিরোধ
বিষণ্ণতা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি কমাতে নিচের অভ্যাসগুলো অনুসরণ করুন:
- প্রতিদিন অন্তত ৮ ঘণ্টা স্বাস্থ্যকর ঘুম নিশ্চিত করুন।
- সুষম খাবার খান এবং খাদ্যতালিকায় অবশ্যই ফল ও সবজি রাখুন।
- দিনের কাজের পরিকল্পনা করুন, এতে অপ্রত্যাশিত ঘটনা ও মানসিক চাপের পরিস্থিতি এড়ানো সহজ হবে।
- নিজের স্বাস্থ্যের যত্ন নিন।
- পরিবার ও কাছের মানুষদের সময় দিন।
- নিজের অনুভূতি প্রকাশ করুন।
- নিয়মিত ব্যায়াম করুন।
- নিজের জন্য সময় রাখুন।