‘অন্যদের চেয়ে পিছিয়ে থাকা যাবে না’ ধরনের মানসিকতা একেবারেই ফলপ্রসূ নয় এবং এটি ক্ষতিও করতে পারে। শৈশব থেকেই অনেকে আশপাশের মানুষের সঙ্গে নিজের তুলনা করতে শেখেন, যখন মা-বাবা, শিক্ষক বা অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রাপ্তবয়স্কের কাছে শোনেন: ‘দেখো, নাবিলা কত ভালো করছে, আর তুমি পারছ না।’-এ ধরনের কথা অন্যদের সঙ্গে তুলনার অভ্যাস তৈরি করে, যা সময়ের সঙ্গে জীবনযাপনের অংশ হয়ে ওঠে। তবে এই অভ্যাস থেকে কী মুক্ত হওয়া সম্ভব? আর তা কীভাবে করা যায়?
মানুষ কেন অন্যদের সঙ্গে নিজের তুলনা করেন?
কেউ কেউ মনে করেন, অন্যদের সঙ্গে নিজের তুলনা করার প্রবণতা বিবর্তনের ধারায় মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে। সফল আচরণের ধরন দেখে মানুষ বেঁচে থাকা ও ভালো থাকার জন্য কী করতে হবে, তা শেখেন।
পেশাগত ক্ষেত্রে তুলনা অনেক সময় এড়ানো যায় না এবং এটি কিছু উপকারও করতে পারে, যেমন:
- নিজের পেশাগত গুণ ও দক্ষতা মূল্যায়ন করা।
- দল বা প্রতিষ্ঠানে নিজের অবস্থান বোঝা।
- আত্মমর্যাদা বাড়ানো।
- পেশাগত পরিচয়ের বোধ দৃঢ় করা।
অন্যদের সঙ্গে নিজের তুলনা করার অভ্যাস কীভাবে ছাড়বেন?
তুলনা করার প্রক্রিয়াটি বুঝুন
প্রথম ধাপ হলো নিজেকে পর্যবেক্ষণ করা। নিচের বিষয়গুলো খেয়াল করুন:
- কখন এবং কেন অন্যদের সঙ্গে নিজের তুলনা শুরু করেন?
- সেই নির্দিষ্ট মুহূর্তে এর কারণ কী?
- এই তুলনা করে আপনি কী অর্জন করতে চান?
ঈর্ষার কারণ বুঝতে পারলে আত্মোন্নয়নের কোন দিকগুলোতে কাজ করা দরকার, তা শনাক্ত করতে পারবেন। অন্যের সাফল্য দেখে তা অর্জনের ইচ্ছা থেকে প্রায়ই ঈর্ষা তৈরি হয়, অথচ সেই সাফল্যের পেছনে কতটা পরিশ্রম রয়েছে, তা জানা থাকে না। ফলে আপনি এমন একটি অবাস্তব ভাবমূর্তির সঙ্গে নিজের তুলনা করেন, বাস্তবে যার কোনো অস্তিত্ব নেই।
নিজেকে মেনে নিন
নিজের স্বতন্ত্রতার মূল্য দিন এবং অস্পষ্ট কিছু মানদণ্ডের পেছনে ছোটা বন্ধ করুন। আপনি অনন্য, এ নিয়ে গর্ব করুন, কারণ পৃথিবীতে ঠিক আপনার মতো আর কেউ নেই। আপনার এই স্বাতন্ত্র্যই অন্যদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। আর নিজের ভেতরের আত্মবিশ্বাস দৃঢ় করতে ‘আত্মবিশ্বাসের মাত্রা’ পরীক্ষাটি সহায়তা করতে পারে।
সময় কাজে লাগান
অন্যদের সঙ্গে নিজের তুলনা করে কোনো মূল্যবান ফল বা তৃপ্তি পাওয়া যায় না। অন্যের যা আছে, তা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা অসন্তোষ আরও বাড়িয়ে জীবনযাত্রার মান খারাপ করতে পারে। অন্যের চাপিয়ে দেওয়া ধারণা থেকে বেরিয়ে আসুন এবং এই অন্তহীন চক্র থামান।
নিজের লক্ষ্যে মনোযোগ দিন
নিজের জন্য একটি বাস্তবসম্মত লক্ষ্য ঠিক করুন এবং তা অর্জনের পরিকল্পনা তৈরি করুন। এতে অর্থহীন তুলনায় মন না দিয়ে নিজের উন্নতিতে মনোযোগ ধরে রাখতে পারবেন।
নিজের আগের অবস্থার সঙ্গে তুলনা করুন
নিজের আদর্শ ও প্রত্যাশাগুলো লিখে রাখুন। অন্যদের বদলে নিজের ব্যক্তিগত প্রত্যাশা, আদর্শ ও আগের অগ্রগতির সঙ্গে বর্তমান অবস্থার তুলনা করুন। আত্মোন্নয়ন ও নিজেকে আরও দক্ষ করে তোলার জন্য এটি অনেক বেশি ফলপ্রসূ পদ্ধতি।