সন্তানের ক্যারিয়ার বেছে নিতে অভিভাবকদের করণীয়

পরীক্ষা দিন
সন্তানের ক্যারিয়ার বেছে নিতে অভিভাবকদের করণীয়
১৪.০৯.২০২৬

নতুন প্রজন্মের পেশা নির্বাচন নিয়ে আলোচনায় এই প্রক্রিয়ায় অভিভাবকদের প্রভাবের বিষয়টি প্রায়ই উঠে আসে। সন্তানের ক্যারিয়ার গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে অভিভাবকের সহায়তা নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে এই সহায়তা কীভাবে ফলপ্রসূ করা যায়, যাতে সন্তানের ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপ বা সীমাবদ্ধতা তৈরি না হয়ে নিজের সামর্থ্যের প্রতি তার আত্মবিশ্বাস বাড়ে? এই নিবন্ধে এমন কিছু কৌশল তুলে ধরা হবে, যা অভিভাবকদের দিকনির্দেশনা ও পছন্দের স্বাধীনতার মধ্যে ভারসাম্য রাখতে সাহায্য করবে। এতে সন্তান নিজেই বিভিন্ন সম্ভাবনা যাচাই করে নিজের ক্যারিয়ারের পথ ঠিক করার সুযোগ পাবে।

সন্তানের পেশা বেছে দেওয়ার সময় অভিভাবকেরা কী কী ভুল করতে পারেন?

  1. অনেক অভিভাবক মনে করেন, একবার পেশা বেছে নিলে সারা জীবন সেটিই করতে হবে। তাঁরা প্রায়ই অর্থনীতির অস্থিরতা ও শ্রমবাজারের ক্রমাগত পরিবর্তন উপেক্ষা করেন এবং ভবিষ্যতে নতুন দক্ষতা অর্জন বা অন্য পেশার প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ বিবেচনায় নেন না। সময়ের সঙ্গে মানুষের আগ্রহ ও পছন্দ অনেকটাই বদলে যেতে পারে, তাই এই ধারণা ঠিক নয়।
  2. কিছু অভিভাবক আত্মীয়স্বজন, বন্ধু বা পরিচিত ব্যক্তিদের পরামর্শে সিদ্ধান্ত নেন। এই পদ্ধতিও ঠিক নয়, কারণ অন্যের মতামত সব সময় আপনার সন্তানের প্রয়োজন ও সর্বোত্তম স্বার্থকে তুলে ধরে না।
  3. সন্তান স্কুলের যেসব বিষয়ে ভালো ফল করে, শুধু সেগুলোর ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিলে অভিভাবকেরা আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ দিক উপেক্ষা করেন। পেশা নির্বাচনে প্রভাব ফেলে এমন বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করা জরুরি।
  4. সন্তানের ওপর নিজের মতামত ও ইচ্ছা চাপিয়ে দিলে সে হয়তো শুধু অভিভাবকদের খুশি করার জন্য পড়াশোনা করবে। কিন্তু ভবিষ্যতে সে ওই পেশাতেই থাকবে, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই।
  5. যেসব পেশা সম্পর্কে অভিভাবকদের ধারণা খুব সীমিত, সেগুলো বিবেচনা করতে বলাও ভালো সিদ্ধান্ত নাও হতে পারে। স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থীরা প্রায়ই কোনো পেশা সম্পর্কে বিস্তারিত না জেনেই সেটি বেছে নেয়। তাই বিভিন্ন পেশার বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া অভিভাবক ও শিক্ষকদের দায়িত্ব।

স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থীর জন্য পেশা বেছে নেওয়া কঠিন কেন?

  1. আগ্রহের বিষয়ে যথেষ্ট জ্ঞান না থাকা বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। যেমন, কোনো শিক্ষার্থী প্রকৌশলী হতে চায়, কিন্তু পদার্থবিজ্ঞান তার কাছে আকর্ষণীয় মনে হয় না। এটি তার লক্ষ্যে পৌঁছানোর পথে বড় বাধা হতে পারে। স্কুলের বিষয়গুলোর পাশাপাশি স্বাস্থ্য, শারীরিক সক্ষমতা ও অন্যান্য বিষয়ও পেশা নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে।
  2. কখনো কোনো শিক্ষার্থী সব বিষয়েই ভালো করে, কিন্তু নির্দিষ্ট কোনো ক্ষেত্রের প্রতি তার প্রবল আগ্রহ তৈরি হয় না। এমন ক্ষেত্রে মনোবিজ্ঞানীর সহায়তা নেওয়া যেতে পারে। তিনি শিক্ষার্থীকে বুঝতে সাহায্য করতে পারেন, কোন পেশায় সে সবচেয়ে বেশি সন্তুষ্টি পাবে।
  3. শিক্ষার্থীর পড়াশোনায় সমস্যা হলে তার আত্মসম্মান বাড়ানোর দিকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। তাকে বোঝানো জরুরি যে বড় হয়ে অনেক সময় তারাই সফল হয়, যারা ভুল করতে ভয় পায় না এবং পছন্দের কাজ করে। এমন ক্ষেত্রে স্কুলের নির্দিষ্ট বিষয়ে ফলাফলের পাশাপাশি সন্তানের আগ্রহকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
  4. নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে না পারা এবং এক বছর নষ্ট হওয়ার ভয় শিক্ষার্থীর ওপর অনেক চাপ তৈরি করতে পারে। এ ক্ষেত্রে বিকল্প পথগুলো বিবেচনা করা এবং বোঝানো জরুরি যে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়াই সব সময় সাফল্যের একমাত্র পথ নয়। ভর্তি হতে না পারলে পরের এক বছর আরও ভালোভাবে প্রস্তুতি নেওয়া ও অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ রয়েছে।
  5. সন্তান শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে নিতে চাইলেও অভিভাবকেরা যদি মনে করেন এতে আয় কম, তাহলে সন্তানের ব্যক্তিগত আগ্রহ ও দক্ষতা বিবেচনা করা জরুরি। বেশি বেতনের চাকরি করেও অনেকে অপছন্দের কাজের কারণে অসুখী থাকেন। অন্যদিকে, শিক্ষকেরা গৃহশিক্ষকতা করে বা বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কাজ করে অতিরিক্ত আয় করতে পারেন। তাই আর্থিক দিক থেকেও পেশাটি আকর্ষণীয় হতে পারে।

সন্তানের পেশা নির্বাচনে অভিভাবকদের জন্য পরামর্শ

  1. মনে রাখুন, সঠিক পেশা নির্বাচনের ওপর আপনার সন্তানের ভবিষ্যৎ স্বাচ্ছন্দ্য ও সুখ অনেকটাই নির্ভর করে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, ভবিষ্যতের কাজটি যেন সে আনন্দের সঙ্গে করতে পারে।
  2. পেশা বেছে নেওয়ার সময় শুধু আপনার পছন্দ নয়, সন্তানের ইচ্ছা, দক্ষতা ও সুযোগও বিবেচনা করা জরুরি।
  3. সন্তানের কথা মন দিয়ে শুনুন। ভুল ধারণার ভিত্তিতে তার মতামত তৈরি হলে সেটি সংশোধনে সাহায্য করুন।
  4. সন্তানের পেশা বেছে নেওয়ার প্রক্রিয়াকে গুরুত্বের সঙ্গে নিন, কারণ এই সিদ্ধান্ত তার পরবর্তী জীবনে প্রভাব ফেলবে।
  5. সন্তানকে লক্ষ করুন। কোন কাজে তার সবচেয়ে বেশি আগ্রহ ও স্বাভাবিক দক্ষতা রয়েছে এবং কোন কাজ সে সহজে ও আনন্দের সঙ্গে করে, তা বোঝার চেষ্টা করুন।
  6. বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে দ্বিধা করবেন না। তাঁরা হয়তো আপনার সন্তানের এমন প্রতিভা ও দক্ষতা শনাক্ত করতে পারবেন, যা আপনার নজরে আসেনি।

আর আলোচনার জন্য একটি নিরপেক্ষ ভিত্তি পেতে ক্যারিয়ার নির্ধারণের পরীক্ষা কাজে আসবে। সন্তানকে নিজে থেকেই পরীক্ষাটি দিতে দিন।

পরীক্ষা দিন
logo