‘দ্য থিওরি অব এভরিথিং’ অসাধারণ অভিনয়শিল্পীদের নিয়ে নির্মিত একটি রোমান্টিক ড্রামা। জেমস মার্শ পরিচালিত চলচ্চিত্রটি ২০১৪ সালে বড় পর্দায় মুক্তি পায়। এতে শুধু আমাদের সময়ের একজন মহান মানুষের গল্পই নয়, ভালোবাসা, পরিবার, বিশ্বাস ও পাশে থাকার মতো মূল্যবোধও উঠে এসেছে। পুরো চলচ্চিত্রে এসবই চরিত্রগুলোকে নানা কঠিন পরিস্থিতি সামলাতে সাহায্য করে।
চলচ্চিত্রটির গল্প কী?
নাটকীয় উপাদানে নির্মিত এই জীবনীভিত্তিক চলচ্চিত্রে দুই তরুণ, জেন ও স্টিফেনের জীবনের গল্প বলা হয়েছে। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটি পার্টিতে তাঁদের পরিচয় হয়। প্রধান চরিত্র স্টিফেন পদার্থবিজ্ঞান, জ্যোতির্বিজ্ঞানসহ বিভিন্ন বিজ্ঞানে অত্যন্ত মেধাবী। তিনি সহপাঠীদের তুলনায় অনেক এগিয়ে ছিলেন। তবে নানা বিষয়ে তাঁর ব্যাপক আগ্রহ থাকায় গবেষণাপত্রের বিষয় ঠিক করতে সমস্যা হচ্ছিল।

স্টিফেনের গবেষণা তত্ত্বাবধায়ক তাঁকে কৃষ্ণগহ্বর নিয়ে একটি বক্তৃতায় যেতে বলেন। সেখানে স্টিফেন কৃষ্ণগহ্বর ও মহাবিশ্বের জন্মের ধারণায় আগ্রহী হয়ে ওঠেন এবং এটিকেই গবেষণাপত্রের বিষয় করার সিদ্ধান্ত নেন। গবেষণা করতে গিয়ে তিনি অতিরিক্ত পরিশ্রমে অসুস্থ হয়ে পড়েন। হাসপাতালে তাঁর একটি গুরুতর রোগ ধরা পড়ে। চিকিৎসকেরা জানান, ধীরে ধীরে তাঁর সব পেশি কাজ করা বন্ধ করে দেবে। ফলে তিনি আর নড়াচড়া, শ্বাস নেওয়া, খাওয়া বা কথা বলতে পারবেন না এবং তাঁর আয়ু সর্বোচ্চ দুই বছর। তবে সৌভাগ্যক্রমে চিকিৎসক আশ্বস্ত করেন, এই রোগ তাঁর মস্তিষ্কে কোনো প্রভাব ফেলবে না।
রোগের কথা না জেনে জেন হাঁটতে নিয়ে গিয়ে স্টিফেনের মন খারাপের ভাব দূর করার চেষ্টা করেন। শেষ পর্যন্ত স্টিফেন তাঁকে সত্যটি জানান। জেন নিজের ভালোবাসার কথা প্রকাশ করে বলেন, তাঁদের ভালোবাসা সব প্রতিকূলতা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করবে। জেন ও স্টিফেনের বিয়ে চলচ্চিত্রটির অন্যতম সেরা মুহূর্ত। পুরোনো ভিডিও ও ছবি দেখে দৃশ্যটি পুনর্নির্মাণ করা হয়েছিল। বিয়ের দুই বছর পর তাঁদের ছেলে রবার্টের জন্ম হয়।
চিকিৎসকদের পূর্বাভাস সত্ত্বেও এই দুই বছরে স্টিফেন তাঁর গবেষণাপত্র শেষ করেন। এমনকি তিনি তখনো হাঁটতে পারতেন, যদিও তাঁকে লাঠির সাহায্য নিতে হতো। জেন ও বন্ধুদের সঙ্গে গবেষণাপত্রের সফল উপস্থাপন উদ্যাপনের সময় থেকেই তিনি হুইলচেয়ার ব্যবহার শুরু করেন। ১৯৭০ সালে তাঁদের মেয়ে লুসির জন্ম হয়। একই সময়ে স্টিফেন কৃষ্ণগহ্বর নিয়ে নিজের তত্ত্ব তৈরি করে বিশ্বজুড়ে খ্যাতি অর্জন করেন। জেন পরিবার ও স্বামীর দেখাশোনা করেন এবং গির্জার গায়কদলে যোগ দেন। মাঝেমধ্যে তাঁরা গায়কদলের পরিচালক জোনাথন জোন্সের সঙ্গে একত্র হন। ধীরে ধীরে তিনি পরিবারের একজন সদস্য, ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সহায়ক হয়ে ওঠেন।
১৯৭৯ সালে জেন তৃতীয়বার গর্ভবতী হন। গুরুতর অসুস্থতার পর স্টিফেন কথা বলার ক্ষমতা হারান, ফলে তাঁর জন্য যোগাযোগ করা আরও কঠিন হয়ে পড়ে। তাঁর জন্য কৃত্রিম কণ্ঠ তৈরির একটি বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়। তবে শেষ পর্যন্ত এই দম্পতি আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। চলচ্চিত্রের শেষ অংশ দর্শককে আবার স্টিফেন ও জেনের প্রথম পরিচয়ের মুহূর্তে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। সেই সঙ্গে সূক্ষ্মভাবে তাঁদের একসঙ্গে কাটানো জীবনের প্রধান ঘটনাগুলোও দেখানো হয়।
চরিত্রের সঙ্গে সত্যিই একাত্ম হয়ে যাওয়া অভিনেতা
এডি রেডমেইন অত্যন্ত যত্ন নিয়ে চরিত্রটির জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। তিনি একজন স্পিচ থেরাপিস্ট ও কোরিওগ্রাফারের সঙ্গে কাজ করেছেন, একই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে দেখা করেছেন, এমনকি স্টিফেন হকিংয়ের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছেন। রোগটি কীভাবে স্টিফেনের কণ্ঠ, শরীর, নড়াচড়া ও আবেগে প্রভাব ফেলেছিল, অভিনেতা তা যতটা সম্ভব নিখুঁতভাবে তুলে ধরতে চেয়েছিলেন... চলচ্চিত্রটির দৃশ্যগুলো সময়ের ধারাবাহিকতা মেনে ধারণ করা হয়নি। তাই শুটিং সেটে প্রতিদিন তাঁকে একাধিকবার রোগের ভিন্ন ভিন্ন পর্যায় ফুটিয়ে তুলতে হতো। চরিত্রটির জন্য তিনি ওজনও কমিয়েছিলেন, ঠিক যেমন রোগের কারণে স্টিফেনের ওজন কমেছিল।
চলচ্চিত্রটি কি দেখা উচিত?
আধুনিক সময়ের মহান এক গবেষকের জীবন, স্টিফেন ও জেনের সম্পর্ক এবং যে আশা নিয়ে প্রধান চরিত্রটি বেঁচে ছিলেন, এসবের জন্যই ‘দ্য থিওরি অব এভরিথিং’ দেখা উচিত।
আর নিজের যুক্তিবোধ ও সক্ষমতা যাচাই করতে পারেন প্রাপ্তবয়স্কদের আইকিউ টেস্টের মাধ্যমে।