সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ফিড স্ক্রল করার সময় আমরা অন্যদের চমকপ্রদ সাফল্য, রোমাঞ্চকর ভ্রমণ ও জীবনের নিখুঁত মুহূর্তের অন্তহীন ধারা দেখি। তখন তাদের তুলনায় নিজের জীবনকে যেন ম্লান মনে হয়।
এভাবে প্রতিনিয়ত তুলনা করলে অসন্তুষ্টি তৈরি হতে পারে এবং চারপাশের সবাই আপনার চেয়ে অনেক ভালোভাবে জীবন কাটাচ্ছেন বলে মনে হতে পারে। এই লেখায় এমন অনুভূতি সামলানোর উপায় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। পাশাপাশি এমন কিছু ব্যবহারিক পরামর্শ ও কৌশল দেওয়া হয়েছে, যা নিজের দৃষ্টিভঙ্গি নতুনভাবে ভাবতে এবং জীবনের নিজস্ব পথকে মূল্য দিতে শিখতে সাহায্য করবে।
চারপাশের সবাই আপনার চেয়ে ভালো আছেন, এমন ভাবনা কীভাবে থামাবেন?
সমস্যাটির মূল কারণ শনাক্ত করা দিয়ে সমাধান শুরু করতে পারেন। এমন অনুভূতির প্রধান কারণগুলো নিচে দেওয়া হলো। এর মধ্যে হয়তো আপনি সেই কারণটি খুঁজে পাবেন, যা আপনাকে জীবন উপভোগ করতে বাধা দিচ্ছে।
সমস্যা: আপনার ব্যক্তিগত বিকাশ থেমে গেছে এবং জীবন স্থবির হয়ে পড়েছে, যেখানে প্রতিটি নতুন দিন আগের দিনের মতোই কাটছে।
সমাধান: নিজের জীবনকে ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখুন এবং কোন বিষয়গুলো নিয়ে আপনি অসন্তুষ্ট, তা শনাক্ত করুন। এরপর বিকাশের ক্ষেত্রগুলো খুঁজে সক্রিয়ভাবে সেগুলো নিয়ে কাজ শুরু করুন।
সমস্যা: আপনি সামাজিক প্রত্যাশার চাপ অনুভব করেন, বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিতদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা দেখলে, যেমন নবজাতক সন্তানসহ স্কুলের সহপাঠীদের ছবি। আগে বিয়ে ও সন্তান পালনের মতো বিষয়কে তেমন গুরুত্ব না দিলেও এসব দেখে আপনি নিজের অগ্রাধিকার নিয়ে নতুন করে ভাবতে পারেন।
সমাধান: আত্মমর্যাদা বাড়ানোর জন্য কাজ করুন, কারণ প্রায়ই সমস্যার মূল সেখানেই থাকে।
সমস্যা: আপনি কাজ পরে করার জন্য ফেলে রাখেন এবং বুঝতে পারেন না যে এখনই শুরু করা ভালো।
সমাধান: ছোট কিছু দিয়ে শুরু করুন, যেমন অল্প সময় ব্যায়াম করা বা উপকারী লেখা পড়া। শিগগিরই দেখবেন, সহজেই কাঙ্ক্ষিত ফল পেয়েছেন, যেমন অতিরিক্ত ওজন কমিয়েছেন।
আপনার যা আছে, তার জন্য কৃতজ্ঞ থাকুন!
জীবনে আমরা অনিবার্যভাবে সফল ব্যক্তিদের সঙ্গে যেমন নিজেদের তুলনা করি, তেমনি তুলনামূলকভাবে কম অর্জন করা ব্যক্তিদের সঙ্গেও করি। প্রথম দলকে দেখে আমরা ঈর্ষা করি, আর দ্বিতীয় দলকে দেখে নিজেদের সান্ত্বনা দিই। তবে এতে প্রকৃত তৃপ্তি আসে না। বরং অতীত ও বর্তমানের নিজের সঙ্গে তুলনা করা, অর্জনগুলো লক্ষ করা, ভুল বিশ্লেষণ করা এবং আচরণে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা অনেক বেশি ফলপ্রসূ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, আপনার যা আছে তার মূল্য দেওয়া এবং সেজন্য আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ থাকা। নিজের ভেতরের আত্মবিশ্বাসের ভিত্তি আরও দৃঢ় করতে ‘আত্মবিশ্বাসের মাত্রা’ পরীক্ষাটি সহায়ক হতে পারে।