গবেষণা পদ্ধতি
গবেষণা পদ্ধতি বলতে বৈজ্ঞানিক গবেষণা পরিচালনা ও অভিজ্ঞতালব্ধ তথ্য সংগ্রহের জন্য ব্যবহৃত নিয়ম, প্রক্রিয়া, কৌশল ও উপকরণের সমষ্টিকে বোঝায়। এই পরিভাষাটি বৈজ্ঞানিক গবেষণার বিভিন্ন দিককে অন্তর্ভুক্ত করে এবং প্রেক্ষাপট অনুযায়ী গবেষণা-প্রক্রিয়ার ভিন্ন ভিন্ন দিক নির্দেশ করতে পারে। গবেষণা পদ্ধতিকে বোঝার কয়েকটি ধরন আলাদা করা গুরুত্বপূর্ণ:
-
গবেষণা পরিকল্পনা হিসেবে পদ্ধতি: গবেষণা পদ্ধতির এই দিকটি গবেষণার সামগ্রিক পরিকল্পনা বা নকশার সঙ্গে সম্পর্কিত। উদাহরণস্বরূপ, এটি পরীক্ষা কীভাবে পরিচালিত হবে তা নির্ধারণকারী পরীক্ষামূলক পরিকল্পনা বা প্রশ্নমালাভিত্তিক গবেষণায় দৈব নমুনা নির্বাচনের পরিকল্পনা হতে পারে।
-
তথ্য সংগ্রহের কৌশল হিসেবে পদ্ধতি: এই দিকটি তথ্য সংগ্রহে ব্যবহৃত নির্দিষ্ট পদ্ধতি ও কৌশলের সঙ্গে সম্পর্কিত। এর মধ্যে জরিপ, পর্যবেক্ষণ, সাক্ষাৎকার, কাঠামোবদ্ধ প্রশ্নমালা ইত্যাদি থাকতে পারে। প্রতিটি কৌশলের তথ্য সংগ্রহের নিজস্ব নীতি ও নিয়ম রয়েছে।
-
তথ্য প্রক্রিয়াকরণের উপায় হিসেবে পদ্ধতি: গবেষণা পদ্ধতির এই দিকটি তথ্য বিশ্লেষণ ও ব্যাখ্যার পদ্ধতির সঙ্গে সম্পর্কিত। এর মধ্যে অর্থবহ উপসংহার পাওয়ার উদ্দেশ্যে পরিসংখ্যানগত বিশ্লেষণ, প্রকল্প পরীক্ষা, বহুচলকীয় তথ্য বিশ্লেষণ এবং তথ্য প্রক্রিয়াকরণের অন্যান্য পদ্ধতি অন্তর্ভুক্ত।
সফল বৈজ্ঞানিক গবেষণার জন্য প্রতিটি পর্যায়ে গবেষণা পদ্ধতি সঠিকভাবে নির্বাচন করা প্রয়োজন —প্রথমে গবেষণার পরিকল্পনা, এরপর তথ্য সংগ্রহ এবং সবশেষে ফলাফল বিশ্লেষণ ও ব্যাখ্যা। পদ্ধতির নির্বাচন নির্দিষ্ট গবেষণা-প্রশ্ন, উপলভ্য সম্পদ ও বৈজ্ঞানিক লক্ষ্যের ওপর নির্ভর করে।