পরীক্ষার বৈধতা
পরীক্ষার বৈধতা (validity of a test) হলো কোনো পরীক্ষা যে নির্দিষ্ট দিক বা বৈশিষ্ট্য পরিমাপ করার জন্য তৈরি, সেটি কতটা সফলভাবে পরিমাপ ও মূল্যায়ন করে তার মাত্রা। অন্যভাবে বললে, পরীক্ষার বৈধতা থেকে বোঝা যায়, পরীক্ষাটি যা পরিমাপ করার কথা তা কতটা নির্ভুল ও যথাযথভাবে পরিমাপ করে।
পরীক্ষার ফলাফল যে প্রকৃত বৈশিষ্ট্য বা গুণাবলি পরিমাপের চেষ্টা করে, সেগুলোর সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, পরীক্ষার বৈধতা তা মূল্যায়ন করে। কোনো পরীক্ষার বৈধতা বেশি হলে এর অর্থ হলো, পরীক্ষাটি যা পরিমাপ করার কথা সত্যিই তা-ই পরিমাপ করে।
পরীক্ষার বৈধতা কয়েক ধরনের, যার মধ্যে রয়েছে:
-
বিষয়বস্তুগত বৈধতা (content validity): পরীক্ষার বিষয়বস্তু আগ্রহের বৈশিষ্ট্যটিকে কতটা প্রতিফলিত করে তা মূল্যায়ন করে। উদাহরণস্বরূপ, বিষয়বস্তুগতভাবে বৈধ একটি গণিত পরীক্ষায় গাণিতিক দক্ষতার বিভিন্ন দিক প্রতিফলিত করে এমন প্রশ্ন থাকা উচিত।
-
মানদণ্ডগত বৈধতা (criterion validity): পরীক্ষার ফলাফল একই বৈশিষ্ট্য পরিমাপকারী অন্যান্য মানদণ্ডের সঙ্গে কতটা সম্পর্কিত তা মূল্যায়ন করে। এই বৈধতাকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়:
- পূর্বাভাসমূলক বৈধতা (predictive validity): পরীক্ষার ফলাফল ভবিষ্যতের আচরণ বা ফলাফল কতটা পূর্বাভাস দিতে পারে তা মূল্যায়ন করে।
- সমকালীন বৈধতা (concurrent validity): পরীক্ষার ফলাফল বর্তমান সময়ে অনুরূপ মানদণ্ডের সঙ্গে কতটা সম্পর্কিত তা মূল্যায়ন করে। উদাহরণস্বরূপ, একটি নতুন পরীক্ষার ফলাফলের সঙ্গে আগে থেকেই প্রতিষ্ঠিত মানসম্মত পরীক্ষাগুলোর ফলাফলের তুলনা।
-
গঠনগত বৈধতা (construct validity): পরীক্ষাটি যে বিমূর্ত গঠন বা মনস্তাত্ত্বিক ধারণা পরিমাপ করার জন্য তৈরি, সেটি কতটা পরিমাপ করে তা মূল্যায়ন করে। উদাহরণস্বরূপ, ব্যক্তিত্ব পরীক্ষার ক্ষেত্রে গঠনগত বৈধতা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এসব পরীক্ষা বহির্মুখিতা বা উদ্বেগপ্রবণতার মতো বিমূর্ত মনস্তাত্ত্বিক ধারণা পরিমাপ করতে পারে।